ইরানে চলমান সহিংস বিক্ষোভ গতকাল বৃহস্পতিবার ১২তম দিনে পৌঁছেছে। এরই মধ্যে ইরানজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অনলাইন পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান নেটব্লকস এই খবর জানিয়েছে।

বিশ্ববাজারে ইরানি রিয়ালের ব্যাপক দরপতন, দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং কঠোর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাজনিত গভীর অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা গত মাসের শেষের দিকে দোকানপাট বন্ধ করে প্রথম বিক্ষোভ শুরু করেছিলেন। এই বিক্ষোভ এখন ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, গত ১২ দিনে ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২৫টির ৩৪৮টি স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

ইন্টারনেট বন্ধের আগে ইরানজুড়ে বিক্ষোভকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে ডিজিটাল সেন্সরশিপের মাত্রা বাড়ানো হয়েছিল। নেটব্লকসের মতে, এমন পদক্ষেপ সংকটময় সময়ে জনগণের যোগাযোগের অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রতিষ্ঠানটি এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

বিক্ষোভকারীরা রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছেন। বুরুজের্দ, আর্সানজান, গিলান-এ-ঘার্বসহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দিয়েছেন। কাস্পিয়ান সাগরের তীরবর্তী শহর তোনেকাবনে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ইরানে এখন পর্যন্ত অন্তত ২১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন। এই তথ্য সরকারি বিবৃতি এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে।

চরম অনিশ্চিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরানি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ভিন্ন সুর দেখা যাচ্ছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বিক্ষোভ দমনে ‘সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর’ আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, ‘দাঙ্গাকারীদের উচিত শিক্ষা দিতে হবে।’ ইরানের প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেন-এজেই বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার’ অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেন, ‘যারাই দেশে “অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে”, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির নির্বাসিত ছেলে রেজা পাহলভি গতকাল সন্ধ্যায় সবাইকে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেছেন, শাসকগোষ্ঠী বিক্ষোভ দমাতে আবারও ইন্টারনেট বন্ধের চেষ্টা করছে।