কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি বাবার সঙ্গে কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময় বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে নিহত হন বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী খাতুন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তার মৃতদেহ পাঁচ ঘণ্টা কাঁটাতারে ঝুলে থাকে, যা দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশ দুই দেশে মেয়ে হত্যার বিচারের দাবি নিয়ে কতবার গেলাম। কিন্তু বিচার পাইনি। নির্বাচনে যে সরকারই আসুক, আমি ফেলানী হত্যার বিচারটা আগে দেখতে চাই।’ মা জাহানারা বেগম জানান, ‘বিএসএফ আমার মেয়েকে হত্যা করে বুকটা খালি করে দিয়েছে। ১৪ বছর ধরে আশায় আছি, সঠিক বিচার পাব।’

অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে পরিবারসহ ভারতে কাজের সন্ধানে গিয়েছিলেন নুরুল ইসলাম। মেয়ের বিয়ের জন্য দেশে ফেরার সময় এ ঘটনা ঘটে। ১৯৯৬ সালে জন্মগ্রহণকারী ফেলানী ছিলেন দম্পতির আট সন্তানের জ্যেষ্ঠ।

বিচারক্রমে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট কোচবিহারে বিএসএফের বিশেষ আদালতে বিচার শুরু হয়। ৬ সেপ্টেম্বর অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। বিজিবির আপত্তিতে ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পুনর্বিচারেও খালাস পান তিনি। ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই মানবাধিকার সংগঠন ‘মাসুম’-এর মাধ্যমে ভারতের উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেন নুরুল ইসলাম। কয়েক দফা শুনানির তারিখ নির্ধারিত হলেও মামলা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।