কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিন দ্বীপের উপকূলে সাম্প্রতিককালে সাগর থেকে মাছ উধাও হয়ে গেছে। জেলেদের ট্রলারে কোনো মাছ ধরা পড়ছে না, বরং ঝাঁকে ঝাঁকে জেলিফিশের মতো দেখতে জেলাটিনাস জুপ্লাঙ্কটন উঠে আসছে। স্থানীয় জেলেরা এটিকে নুইন্যা বলে ডাকেন। এই প্রাণীরা নরম জেলির আবরণে তৈরি এবং স্রোতের সঙ্গে ভেসে বেড়ায়। মানুষের শরীরে লাগলে চুলকায় এবং সামুদ্রিক মাছের জন্য ক্ষতিকর, কারণ এরা মাছের খাবার, ডিম ও পোনা নষ্ট করে।
সেন্ট মার্টিন বোট মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি আবু তালেব জানান, গত ১ ডিসেম্বর থেকে পর্যটকরা ছোট মাছ ধরেছিলেন, কিন্তু সাত-আট দিন ধরে কোনো মাছই পাওয়া যাচ্ছে না। সাগরে বিশাল এলাকাজুড়ে এই প্রাণীর বিচরণ দেখা যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সের গবেষকরা সম্প্রতি দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে ২৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় জরিপ করে বিস্তীর্ণ এলাকায় এদের অস্বাভাবিক আধিক্য লক্ষ্য করেন। অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ চৌধুরীর নেতৃত্বে দলটি ২০-৩০ ডিসেম্বর ১১ দিন জরিপ চালায়। প্রতিটি ঝাঁক কয়েক কিলোমিটার বিস্তৃত এবং পানির ওপর থেকে দৃশ্যমান। ২০২১ সালের গবেষণায় এই প্রাণীর অস্তিত্ব প্রথম রেকর্ড করা হয়।
মৎস্য বিশেষজ্ঞরা জানান, বঙ্গোপসাগরে অন্তত ২৫ প্রজাতির জেলিফিশ রয়েছে, কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিনে তিন প্রজাতি দেখা যায়। কক্সবাজার সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণাকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আশরাফুল হক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও কাছিমের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এদের উপস্থিতি বাড়তে পারে। পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা জানান, সেন্ট মার্টিন ও ছেঁড়াদিয়া সৈকতে মৃত জেলিফিশ ভেসে আসছে।