চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বারিয়ারহাট পৌরবাজারের উত্তর পাশে ধুমঘাট সেতু এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে, দিবাগত রাত দুইটার দিকে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত একটি দ্বিতল যাত্রীবাহী বাস (স্লিপার কোচ) কাঠবোঝাই ট্রাকের পেছনে প্রচণ্ড ধাক্কা দেয়। এই দুর্ঘটনায় বাসের তিন যাত্রী নিহত হন এবং অন্তত পাঁচজন আহত হন।

নিহত যাত্রীরা হলেন মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের মসজিদিয়া গ্রামের নুর আলমের ছেলে নাফিস আহমেদ (১৬), চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানা এলাকার মো. হেলাল উদ্দিনের মেয়ে ছাবিতুন নাহার (২৫) এবং গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কাতলামারি এলাকার মৃত নয়া ব্যাপারীর ছেলে মিন্টু মিয়া। হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের জানামতে, বন বিভাগের তল্লাশিচৌকির সামনে সড়কের ওপর কাঠবোঝাই ট্রাকটি কাগজপত্র দেখানোর জন্য রাখা ছিল। ঢাকামুখী বাসটি তখন ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়, ফলে বাসের অন্তত আটজন যাত্রী আহত হন।

স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন এবং অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বোরহান উদ্দিন প্রথম আলোকে দুর্ঘটনায় হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহত যাত্রীদের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং নাফিস আহমেদের লাশ তার পরিবারের সদস্যরা নিয়ে গেছেন। নাফিসের ভগ্নিপতি মোবারক হোসেন বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এসআই বোরহান উদ্দিন আরও বলেন, বন বিভাগের তল্লাশিচৌকির সামনে সড়কে গাড়ি রেখে কাগজপত্র দেখানোর কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনাকবলিত দুটি যানবাহন জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার হেফাজতে রয়েছে, তবে গাড়ির চালকেরা পালিয়ে গেছেন।